দেওযানি মামলার বিভিন্ন ধাপ: আদালত সম্পর্কে বিচার প্রার্থীদের অনভিজ্ঞতা এবং ভয় ভীতি পরোক্ষভাবে আদালতের দাড়গোড়ায় তাদের ভোগান্তি বৃদ্ধি করে। মামলা সাধারণত ফৌজদারী বা দেওয়ানী এই দুই প্রকারের হয়। জমি জমা বা সম্পদ এবং পদ সংক্রান্ত মামলাকে দেওয়ানী মামলা বলা হয়। দেওয়ানী মামলা বিচারে কয়েকটি ধাপ আছে এবং প্রতিটি ধাপের জন্য আইনের কিছু নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। দেওয়ানী মামলার পূর্ব শর্ত আরজি গঠন। বাদীর নালিশের লিখিত বিবরণকে আরজি বলা হয়। ১। মামলা দায়ের ও আরজি গ্রহণ: দেওয়ানী মামলা শুরু হয় আরজি গ্রহণের মাধ্যমে। দেওয়ানী আদালতের সেরেস্তাদার বা তার অনুপস্থিতিতে সেরেস্তাদার হিসেবে কর্মরত কর্মচারী মামলার আর্জি গ্রহণ করে আরজির গায়ে বা তার সাথে যুক্ত অর্ডারশিটে বা স্লিপে মামলার ফাইলিং নম্বর লিখবেন। যেমন- দেওয়ানী মামলা নং - ১০০/২০২৫(এর অর্থ হল ঐ আদালতের ২০২৫ সালের ১০০ নম্বর দেওয়ানী মামলা)। এরপর সেরেস্তাদার অর্ডারশিটে আলাদা করে এবং সিল মোহর লাগিয়ে যিনি আর্জি উপস্থাপন করবেন তার কাছে ফেরত দিবেন। এরপর আর্জির সাথে দাখিল হতে পারে এরূপ সকল কাগজ পত্রে মামলার নম্বর উল্লেখ করতে হবে। সেরেস্তা...
** 'হেবা' ও 'হেবা-বিল-এওয়াজ' কী? ** মুসলিম আইনে দানকে 'হেবা' বলা হয়। যখন কোনো একজন ব্যক্তি তার সম্পত্তি অপর ব্যক্তির কাছে কোনো প্রকার বিনিময় ছাড়াই অবিলম্বে হস্তান্তর করে এবং শেষোক্ত ব্যক্তি বা তার পক্ষে অন্য কেউ সেটি গ্রহণ করে, তখন সেই সম্পত্তির হস্তান্তরকে 'হেবা' বা দান হিসেবে অভিহিত করা হয়। মুসলিম আইন অনুসারে, সুস্থ মনের অধিকারী এবং নাবালক নন- এমন যেকোনো মুসলিমই দান বা হেবা করে তার সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন। হেবা বৈধ হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রথমত, দাতা কর্ত ৃক দানের কথা ঘোষণা করতে হয়, দ্বিতীয়ত, দানগ্রহীতা বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সুস্পষ্টভাবে ওই দান গ্রহণ করতে হয় এবং তৃতীয়ত, দাতা কর্তৃক দান গ্রহীতাকে দানের বিষয়বস্তুর দখল দিতে হয়। সম্পত্তির হস্তান্তর আইন কিংবা মুসলিম আইন- কোনোটিতেই স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির দান আইনসিদ্ধ হওয়ার জন্য লিখিত দলিল হওয়া জরুরি নয়। মুসলিম আইনানুসারে, দানকৃত সম্পত্তির দখল দানগ্রহীতাকে অর্পণ করার আগে যেকোনো দাতা দান বাতিল করতে পারেন। কারণ, দখল অর্পণের আগে হেবা বা দান সম্পূর্ণ হয় না। দখল অর্পণের ...
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন ******************************* মুসলিম উত্তরাধিকার আইন কনটেন্টটিতে উত্তরাধিকারের শ্রেণিবিভাগ, প্রাপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ, ত্যাজ্য সন্তানের উত্তরাধিকার, স্বামী-স্ত্রীর প্রাপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন : আকরাম ৪০ বছর বয়সে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল। রেখে গেল বাবা, স্ত্রী রেহানা, দুই ভাই ও এক মেয়ে মিতা। আকরাম কৃষিকাজ করত। তার প্রায় ১০ বিঘা জমি ও বসত বাড়ি ছিল। আকরামের মৃত্যুর পর আকরামের ভাই সাইদ আকরামের স্ত্রী রেহানাকে বলে যে আকরামের সম্পত্তিতে রেহানা ও তার মেয়ে মিতার কোন অধিকার নেই। সাইদ তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। অসহায় রেহানা কি করবে বুঝতে পারে না। সে তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসে। রেহানার বাবা উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে জানত না। রেহানার বাবা রেহানাকে নিয়ে উকিলের কাছে যান পরামর্শের জন্য। উকিল তাদেরকে উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে অনেক তথ্য দেন। উকিল : মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী আকরামের সম্পত্তিতে রেহানা ও তার মেয়ে মিতার অধিকার আছে। রেহানা : উত্তরাধিকার কি ? *********************** উকিল : কোন নারী বা পুরুষের মৃত্...
Comments
Post a Comment