Posts

জুডিসিয়াল নোটিশ ও কিছু কথা

জুডিসিয়াল নোটিশ ও কিছু কথা  -------------------------------- ১) কোন মামলার বিচারকালে আদালত যেসব ঘটনা বিচারক্রুপে অবহিত হবেন  যা প্রমানের দরকার পরেনা -সে বিষয়গুলোকে জুডিসিয়াল নোটিশ বলা হয় । ২) সাক্ষ্য আইনের ৫৬ এবং ৫৭ ধারায় জুডিসিয়াল নোটিশ সম্পর্কে বিধৃত  করা হয়েছে ।৫৬ ধারায় বিধান করা করা হয়েছে যে ,যেসকল ঘটনা বিচারকের দৃষ্টি গোচরে যাওয়ার যোগ্য সেগুলো প্রমান করার দরকার নেই । ৩) আইনের সাধারন নিয়ম হলো যিনি যা দাবী করবেন তিনি তা প্রমান করতে বাধ্য ।এই সাধারন নিয়মের একটি ব্যাতিক্রম হলো ৫৬ ধ্রায় জুডিসিয়াল নোটিশ ।অর্থাত কোন মামলার বিচারকালে আদালত যেসব ঘটনা বিচারক্রুপে অবহিত হবেন যা প্রমানের দরকার হবেনা । ৪) ৫৭ ধারায় বিধান করা হয়েছে যে ,নিম্নলিখিত বিষয় সমুহে আদালত অবশ্যই জুডিসিয়াল নোটিশে নিবে ; (১) বাংলাদেশের আইন সমুহ ; (২) সসসরো বাহিনীর জন্য প্রণীত যুদ্ধ বিধিসমুহ ; (৩) সংসদের কার্যপদ্ধতি ; (৪) আদালত কত্রিক ব্যাবরিত সিল ৫) এখানে স্মরণ রাখা দরকার যে ,দেশের সমস্ত আইনসমুহ রীতিমত গেজেটে প্রকাশিত হয়।আদালত সেগুলো পাবার কথা ।আইনে একটি নীতিতে বলা হয়েছে যে ," জানিনা বলে ...

জেনে নিন ভায়োলেশন কেইস সম্পর্কে

জেনে নিন ভায়োলেশন কেইস সম্পর্কে মোঃ আল-ইমরান খান, লেকচারার, আইন বিভাগ,স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটনাঃ ধরুন, আপনি আপনার প্রতিবেশির সাথে জমি জমা সংক্রান্ত একটি বিষয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান মামলার এক পর্যায়ে আদালতের কাছে এই মর্মে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছিলেন যে,যেহেতু আপনি জমির দখলে আছেন এবং আপনার কাছে জমির কাগজ পত্রাদি ও রয়েছে সুতরাং মামলার চূড়ান্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমির ভোগ দখলে যাতে আপনার প্রতিবেশী- বিবাদী কোনরুপ হস্তক্ষেপ না করতে পারে সেইমর্মে তাকে আদেশ দেওয়া হোক। আদালত দুই পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে আপনার পক্ষে আস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করলেন এবং বিবাদীকে এই মর্মে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আপনার ভোগ দখলে বাঁধা না দেয়। কিন্তু আদেশ দেওয়ার সপ্তাহান্ত না পেরুতেই বিবাদী তার ছেলেদের নিয়ে উক্ত তর্কিত ভূমিতে প্রবেশ করতঃ গাছের ফল ও ডালপালা কেটে নিয়ে গিয়েছে; শুধু তাই নয় আপনাকে এই মর্মে শাসিয়েছে যে, আপনি যদি তিন দিনের মধ্যে জমি ছেড়ে না দেন তাহলে আপনাকে দেখে নেওয়া হবে। অর্থাৎ তিনি আদালতের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছেন। আলোচ্য বিষয়...

সংবিধান শর্টকাটে মনে রাখার টেকনিক।

সংবিধান শর্টকাটে মনে রাখার টেকনিক। ------------------------------ ------------------- সংবিধানের ১১টি ভাগ মনে রাখার উপায়ঃ প্র রা মৌ নি আ বি নি ম বাং জ সং বি আসুন, মিলিয়ে নেই- ১। প্র - প্রজাতন্ত্র ২। রা - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ৩। মৌ - মৌলিক অধিকার ৪। নি - নির্বাহী বিভাগ ৫। আ - আইন সভা ৬। বি - বিচার বিভাগ ৭। নি - নির্বাচন ৮। ম - মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ৯। বাং- বাংলাদেশের কর্মবিভাগ ৯ক। জ- জরুরী বিধানাবলী ১০। সং-সংবিধান সংশোধন ১১। বি- বিবিধ চলুন, এইবার আলাদা ভাবে অনুচ্ছেদ গুলোর দিকে দৃষ্টি দেই। অনুচ্ছেদ ১-১২ অনুচ্ছেদ ১-১২ মোটামুটি এমনি মনে থাকে। এই অনুচ্ছেদ গুলোর মধ্যে গুরুত্তপূর্ন অনুচ্ছেদ গুলো হল- ২ - প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা ২ক - রাষ্ট্রধর্ম ( মনে রাখবেন কোন সংশোধনীর মাধ্যমে এটি হয়েছে) ৪ক - প্রতিকৃতি [১৫ তম সংশোধনীতে পরিবর্তন হয়েছে এখানে- জাতির পিতার প্রতিকৃতি] ৬ - নাগরিকত্ব [১৫ তম সংশোধনীতে পরিবর্তন হয়েছে এখানে- ৬(২)-বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বিলয়া পরিচিত হইবেন। ] ৭ - সংবিধানের প্রাধান্য [১৫ তম সংশোধনীতে পরিবর্তন হয়েছে এখানে- ৭ক ...

মুক্তি / অব্যহতি /খালাস

মুক্তি ======================================================== ১ কোন কারনে মামলার কার্যক্রম বন্ধ হলে আসামী মুক্তি পাবে। ধারা ২৪৯ অব্যহতি ======================================================== ১ মামলার শুরুতে মামলার নথি, পুলিশ রিপোর্ট, মেডিকেল রিপোর্ট ( যদি থাকে)ও অন্যান্য কাগজপত্র বিবেচনার পর যদি আসামীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ না থাকে তবে আসামী অব্যহতি পাবে (আসামীর দাখিল করা কোন কাগজ বিবেচনায় আসবে না)। ধারা ২৪১ক ২। পুলিশি মামলায় রাষ্ট্র পক্ষ চার্জ গঠনের পুর্বে মামলা প্রত্যাহার করিলে আসামী অব্যহতি পাবে। ধারা ৪৯৪ খালাস =========================================================== ১। শুনানিতে আসামীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হলে আসামী খালাস পাবে। ধারা ২৪৫ ২। নালিশি মামলায় শুনানির তারিখে ফরিয়াদি অনুপস্থিত থাকলে আসামী খালাস পাবে। ধারা ২৪৭ ৩। নালিশি মামলায় ফরিয়াদি যদি মামলা প্রত্যাহার করে তবে আসামী খালাস পাবে। ধারা ২৪৮ ৪। মামলার উভয় পক্ষের আপোষমীমাংসায় মিমাংসা হলে আসামী খালাস পাবে, তবে সর্ত থাকে মামলাটি মীমাংসাযোগ্য হতে হবে। ধারা ৩৪৫ ৫। পুলিশি মামলায় রাষ্ট্র পক্ষ চার্জ গঠনের ...

দেওয়ানী আদালতে রিভিশন

দেওয়ানী আদালতে রিভিশন ++++++++++++++++++ ক) দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী রিভিশনের ধারা ১১৫ এবং কোন আদেশ নেই। খ) দেওয়ানী আদালতের রিভিশনের এখতিয়ার শুধুমাত্র জেলা জজ  ও হাইকোর্ট বিভাগের। গ) যে ক্ষেত্রে আপিলের বিধান নেই সেই ক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করা হয়। ঘ) রিভিশন দায়ের করা হয় আইনগত ভুল ও ন্যায় বিচারে বিঘ্ন ঘটার কারনে। ঙ) দেওয়ানী আদালতে রিভিশন দায়ের জন্য কোন তামাদি সময় নেই। চ) জেলা জজ প্রদত্ত রিভিশন মামলায় প্রদত্ত আদাশের বিরুদ্ধে অনুমতি সাপেক্ষে হাইকোর্ট বিভাগে পুনরায় রিভিশন দায়ের করা যায়। সুতরাং দেওয়ানিতে ২য় রিভিশন চলে। কোথায় রিভিশন হবে? ++++++++++++++ ১) সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ ও যুগ্ম জেলা জজ প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন জেলা জজ আদালতে। ২) অতিরিক্ত জেলা জজ ও জেলা জজ প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন হাইকোর্ট বিভাগে। ৩) ৫ টি দেওয়ানী আদালত প্রদত্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন হাইকোর্ট বিভাগে।

দেওয়ানী মোকদ্দমায় বিভিন্ন খরচার তালিকা

দেওয়ানী মোকদ্দমায় বিভিন্ন খরচার তালিকা  _______________________ ১। বাদী পক্ষের অপর্যাপ্ত কারনে গ্রেফতার, ক্রোক বা নিষেধাজ্ঞা দিলে বিবাদী অনধিক ১০০০০ টাকা ক্ষতিপ ূরণ পাইতে পারে যা আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের অধিক হবে না। ২। একতরফা ডিক্রি রদ-রহিতের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০০ টাকা জমা দিতে হয়। ৩। দেওয়ানী মোকদ্দমা তদবিরের অভাবে প্রদত্ত খারিজের আদেশ সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা প্রদানে সরাসরি রদ-রহিত করা জায়। ৪। কোন পক্ষের আবেদনে আদালত মুলতবী অনুমোদন করিলে অন্যপক্ষকে কমপক্ষে ২০০ টাকা এবং অনধিক ১০০০ টাকা প্রদানের আদেশ দিবেন। ৫। খরচার টাকা প্রদানের ব্যর্থতার জন্য মোকদ্দমা খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হইলে পূনর্বহালের জন্য আবেদন পত্রের সাথে খরচা বাবদ ২০০০ টাকা জমা দিতে হবে। ৬। যে পক্ষের অনুরুধে অন্তর্বতী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, মোকদ্দমার সিদ্ধান্ত যদি তাহার বিরুদ্ধে যায় এবং অনরুপ নিষেধাজ্ঞার জন্য অন্য পক্ষের ক্ষতি হয়, তবে আদালত ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের জন্য খরচের অতিরিক্ত অনধিক ১০০০০ টাকা ক্ষতিপূরনমূলক খরচ হিসেবে অনুমোদন করিবেন। ৭। আদালত মোকদ্দমার খরচের উপর অনধিক বার্ষিক ৬% টাকা হারে প্রদানের নির্দেশ দিতে প...

আদালত কি কারো পরামর্শ গ্রহন করতে পারেন?

আদালত কি কারো পরামর্শ গ্রহন করতে পারেন? যখন কোন আদালতে এমন কোন মামলা করা হয় যা খুবই জটিল প্রকারের। অর্থাৎ কোন মামলা এমন প্রকৃতির যা আদালত সরাসরি সঠিক কিনা তার ব্যপারে কনফিউশনে থাকে তাহলে ঐ বিষয়ে যে ব্যক্তি বিশেষ অভিজ্ঞ তার কাছ থেকে পরামর্শ বা মতামত নিতে পারেন। এই বিষয়ে যার কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া হবে বা হয় তাকে বিশেষজ্ঞ বলা হয়। মুলত আদালত যেসব বিষয়ের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের মতামত বা পরামর্শ নিতে পারেন তাহলো - ১। বিদেশী আইনে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হলে। ২। বিজ্ঞান বা চারুকলার প্রশ্নে। ৩। অর্পন বা টিপসহির সনাক্তির প্রশ্নে ইত্যাদি। ইত্যাদি ক্ষেত্রে মতামত বা পরামর্শ নিতে পারেন অর্থাৎ আদালত যে ক্ষেত্রে মতামত নেবার প্রয়োজন মনে করেন।